পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যার ঘটনাকে ‘জামায়াত আমিরকে নিয়ে পোস্ট করায় কুপিয়ে হত্যা’ দাবিতে  প্রচার

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সামাজিক মাধ্যমে একটি নৃশংস ভিডিও ঘিরে দাবি করা হচ্ছে—“মাদারীপুরের শিবচরে জামায়াতের আমিরকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় রাকিব মাদবর নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে জামায়াতশিবিরের কর্মীরা। এটা কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা?” 

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সড়কের পাশে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হচ্ছে।  ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে। 

তবে ফ্যাক্ট অর ফলসএর যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিত্তিহীনভাবে এই দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা জামায়াতশিবির সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার কারণে ঘটেনি। এটি একটি পুরোনো বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।

ছড়ানো ভিডিওটির সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রথম আলো  পত্রিকার একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়মাদারীপুরের শিবচরের চরশ্যামাইল এলাকার রাকিব মাদবর, যিনি বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন, তাঁকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এলাকাবাসীর দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত মে মাসে ওই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের একজন নিহত হন এবং সে ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার নম্বর আসামি ছিলেন রাকিব। জামিনে মুক্ত হয়ে সম্প্রতি এলাকায় ফেরার পর তাঁকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিবচর পৌর বাজারে একটি ব্যাংকের সামনে রাকিবের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি প্রথম আলোর  প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। ভিডিওর লোকেশন, সময়, হামলার ধরন, এমনকি আশপাশের পরিবেশও প্রতিবেদনের বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভিডিওটি এই ঘটনাতেই ধারণ করা হয়েছে।

আরও অধিকতর যাচাইয়ে রাকিব মাদবরের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছেতিনি জামায়াত বা জামায়াতের আমিরকে নিয়ে কোনো পোস্ট করেননি। ফলে যে দাবি ছড়ানো হচ্ছে, তার সঙ্গে রাকিবের ফেসবুক অ্যাকটিভিটির কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া, পুলিশ, নিহতের পরিবার এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতেওকোথাওজামায়াত আমিরকে নিয়ে পোস্ট”–সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা তথ্য উঠে আসেনি।

অর্থাৎ. ফেসবুকে জামায়াত আমিরকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় জামায়াতশিবির কর্মীরা রাকিব মাদবরকে হত্যা করেছে”—এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত পূর্বশত্রুতা আগের হত্যা মামলার বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। 

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট