সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের একজন হিন্দু নারী উগ্রপন্থী মুসলিম পুরুষদের আক্রমণ থেকে সাহসিকতার সাথে তার বাড়ি ও সন্তানকে রক্ষা করছেন।
দেখুন এখানে
ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওতে দেখা নারী হিন্দু নন; তিনি একটি মুসলিম পরিবারের সদস্য।
প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চে মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-তে ২৫ মার্চ ২০২৬ এ “চোর নির্মূল কমিটির সভা থেকে ২ ‘চোরের’ বাড়িতে এলাকাবাসীর হামলা-ভাঙচুর” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে আলী হোসেনের বাড়িতে। ভিডিওতে দেখা নারীটি মোহাম্মদ তারেক মিয়ার স্ত্রী।
গরু চুরির অভিযোগে তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই অভিযোগের জেরে স্থানীয় গ্রামবাসীর একটি দল জড়ো হয়ে বাড়িটিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
হামলার সময় ওই নারী একটি ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজের সন্তান ও সম্পত্তি রক্ষায় বাড়ির সামনে দাঁড়ান।
প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে যে, এই হামলা ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে নয়; বরং চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিরোধের জেরে সহিংশতায় রূপ নেয়।
উপপরিদর্শক (এসআই) রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। বারবার এমন ঘটনার কারণে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িটিতে হামলা চালায়।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ ধরনের গণপিটুনি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই বৈধ নয়।”
অর্থাৎ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মিথ্যা।
