ফাঁসির ভয়ে লন্ডনে চলে গিয়েছিলাম—এমন কথা বলেননি তারেক রহমান

“বিএনপি কখনো গুপ্ত রাজনীতি করেনি। শুধু জেল বা ফাঁসি’র ভয়ে হাসিনা যেমন ভারতে চলে গিয়েছে আমিও সেভাবে লন্ডনে চলে গিয়েছিলাম, এটাকে পালানো বলা যাবে না, আমি মূলত দেশের স্বার্থেই গিয়েছিলাম।”  বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। 

এ সম্পর্কিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের নিউজ ফটোকার্ডের আদলে বানানো একটি ছবি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে। ছবিটির উপরের দিকে বাম পাশে বাংলাভিশনের লোগো নকল করে চান্দাভিশন নামে একটা ভুয়া লোগো বসানো হয়েছে।

মাঝামাঝি জায়গায় তারেক রহমানের আজকের (১৭ জানুয়ারি) একটি অনুষ্ঠানের ছবি দিয়ে তাতে ক্যাপশন লেখা হয়েছে, “বিএনপি কখনো গুপ্ত রাজনীতি করেনি। শুধু জেল বা ফাঁসি’র ভয়ে হাসিনা যেমন ভারতে চলে গিয়েছে আমিও সেভাবে লন্ডনে চলে গিয়েছিলাম, এটাকে পালানো বলা যাবে না, আমি মূলত দেশের স্বার্থেই গিয়েছিলাম” –তারেক রহমান। 

আলোচিত কার্ডটির নিচের অংশে তারিখ হিসেবে লেখা হয়েছে, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, মাঝে বাংলাভিশনের ওয়েবসাইট ঠিকানা এবং ডানপাশে কোনায় লেখা বিস্তারিত কমেন্টে। তবে কমেন্টে এধরনের কোনো বিষয় খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি বিশ্বাস করে পোস্টে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনদের অনেকে। চৌধুরী নুরুল আলম নামের একজন লিখেছেন, “বুঝলাম আপনি গিয়েছিলেন দেশের স্বার্থে, তবে হাসিনা গিয়েছে কোন স্বার্থে ?” তোফায়েল আহমেদ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “ইসলামি জ্ঞান দরকার, কৌশলকে গুপ্ত বলা হয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।”

তবে ফটোকার্ডটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, সরাসরি এধরনের বক্তব্য দেননি তারেক রহমান। তার বক্তব্য বিকৃত করে দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। 

প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে, ‘কৌশলের নামে বিএনপি কখনো গুপ্ত বা সুপ্ত পরিচয় ধারণ করেনি” শিরোনামে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কর্তৃক গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেছেন।

সেখানে তারেক রহমান বলেন, “দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন-অপহরণ, মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে, আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।”

তারেক রহমানে বক্তব্য দাবি করে ছড়ানো ফটোকার্ড এবং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তার বক্তব্য যাচাই করে দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ছড়ানো ফটোকার্ডটিতে প্রথম লাইনের পরবর্তী অংশ বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং “বিএনপি কখনো গুপ্ত রাজনীতি করেনি। শুধু জেল ফাঁসি’র ভয়ে হাসিনা যেমন ভারতে চলে গিয়েছে আমিও সেভাবে লন্ডনে চলে গিয়েছিলাম, এটাকে পালানো বলা যাবে না, আমি মূলত দেশের স্বার্থেই গিয়েছিলাম।” দাবিতে তারেক রহমানের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি সম্পাদিত এবং তারেক রহমান এধরনের কথা বলেননি।   

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট