সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের একটি সাদা-কালো ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে তাকে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দেখা যাচ্ছে।
“Hannan Aslam” নামের একটি ফেসবুক একাউন্টে “আমার কাকু ফেরেশতা। কিন্তু ছবিতো কথা বলে…..” এই ক্যাপশনে দুইটি ছবি পোস্ট করা হয়। প্রথম সাদাকালে ছবিতে ১৯৭১ এবং দ্বিতীয়টি তাহেরের বর্তমান ছবি যেখানে ২০২৬ লিখা। পোস্টটি প্রায় ৪ হাজার বার শেয়ার হয়েছে যেখানে “স্বাধীনতা বিরোধী’ “রাজাকার” প্রভৃতি মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স- এ “Tuhin Islam” নামক একটি একাউন্ট থেকে একই দাবিতে একটি পোস্ট করা হয় ।
তবে ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা গেছে, ছবিটি ১৯৭১ সালের নয় বরং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের সময়ের।
রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখা যায়, ছবিটি ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’-এর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। ছাত্রশিবিরের ওই পোস্টে ছবিটিকে “স্বৈরাচারবিরোধী ’৯০-এর গণআন্দোলনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার খণ্ডচিত্র” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবির প্রেক্ষাপটে পুলিশের ইউনিফর্ম এবং ব্যারিকেডগুলোও নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ছাত্রশিবিরের পোস্টটি দেখুন [ এখানে ]।
এছাড়া, ডা. তাহেরের বয়সের বিশ্লেষণ করা হয়। উইকিপিডিয়া ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের জন্ম ১৯৫৮ সালে। সেই হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। অথচ ভাইরাল ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি একজন পূর্ণবয়স্ক তরুণ। ১৩ বছরের একজন কিশোরের পক্ষে ছবিতে দৃশ্যমান শারীরিক গঠন থাকা স্বাভাবিক নয়, যা প্রমাণ করে ছবিটি ১৯৭১ সালের হতে পারে না। উল্লেখ্য ড. তাহের ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৬-৮৭ সেশনে ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
অনুসন্ধান ও সার্বিক বিষয়াদি বিশ্লেষন করে বলা যায়, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তোলা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের একটি ছবিকে প্রেক্ষাপট পাল্টে ১৯৭১ সালের দাবি করে তাকে ‘রাজাকার’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। যা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ।
