কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ভাতিজা সাদ্দাম হোসেনের টেঁটার আঘাতে চাচা আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মাহমুদুর রহমান কামাল নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানভীর আহমেদ ওরপে মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন (এলাকায় তানভীর নামে পরিচিত) ঐতিহ্যগতভাবে বা পারিবারিকভাবে বিএনপি কিন্তু কিছুদিন আগে সে জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়।
সম্প্রতি ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, “…কিশোরগঞ্জের ২ আসনে কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে জামাত কর্মী সাদ্দাম কুপিয়ে হত্যা করেছে।…”
দেখুন এখানে
ফেসবুকে Md Jamal Mia নামের একটি প্রোফাইল থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এর একটি পোস্টে জানানো হয়, “আমার ছোটবেলার বন্ধু তানভীর আহমেদ পারিবারিক ঐতিহ্য ভেঙে সহযোগী ফরম পূরণের মাধ্যমে বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। আমার বন্ধুকে সংগঠনের স্বাগত জানিয়ে আমার পক্ষ থেকে দুটি বই উপহার দিয়েছি। ১। কালেমায়ে তাইয়্যেবা
২। মনটাকে কি কাজ দিন।”
পোস্টের সাথে যুক্ত ছবিতে দেখা যাচ্ছে তানভীর আহমেদ ওরপে মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করছে এবং জামাল মিয়ার কাছ থেকে বই সংগ্রহ করছে।
দেখুন এখানে
“কিশোরগঞ্জে জামায়াত কর্মীর হামলায় এক বিএনপি নেতা নিহত” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে সময় টেলিভিশন।
দেখুন এখানে
মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত কিন্তু এই হামলার ঘটনা মূলত পারিবারিক জমির বিরোধ নিয়ে।
কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে দৈনিক মানবজমিন, সময় টেলিভিশন, সমকাল এবং দৈনিক খোলা কাগজ সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। বরং দুই ভাইয়ের জমির বিরোধ নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনটি হুবহু এখানে তুলে দেয়া হলো:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে মাহমুদুল হাসান কামাল নামের এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের ভিটাদিয়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত কামাল আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি ভিটাদিয়া গ্রামের মৃত হাজী খুর্শিদ উদ্দিনের ছেলে।
অভিযুক্ত ভাতিজা হলেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি কামালের বড় ভাই জালাল উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বড় ভাই জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কামালের বিরোধ ছিল। গতকাল সকালে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে কলহ বাধে। জালাল উদ্দিন ও তাঁর ছেলে সাদ্দাম টেঁটা, বল্লম নিয়ে কামালের পরিবারের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে ভাতিজা সাদ্দামের টেঁটার আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান কামাল। একই ঘটনায় তাঁর ছেলে কাঁকনের হাতেও টেঁটা বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁদের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে কামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ জালাল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
