সিসিটিভি ফুটেজে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকে জামায়াত নেতা দাবিতে প্রচার

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা।

“রঙ পেন্সিল নামে”র একটি ফেসবুক পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “জামাত নেতার আকাম সিসি ক্যামেরায় ধরা…লিংক কমেন্টে”।

দেখুন এখানে

ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা যায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তি জামায়াতের কোনো নেতা নন। তার নাম শাহাদাত হোসেন জামিল। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর তার ওই পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে এনটিভির ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “রামগতিতে ইসলামী আন্দোলনের নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল।” বিস্তারিত প্রতিবেদনেও ওই ব্যক্তির পদ উল্লেখ করে তাকে ইসলামী আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “রামগতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহাদাত হোসেন জামিলের আপত্তিকর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ৬ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উপজেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। স্থানীয় জনগণ ও নেটিজেনদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি উপজেলা শাখার সভাপতি কামাল উদ্দিন তাহেরী জানান, এরকম একটা ভিডিও দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পরই তারা দলের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলরা এ বিষয়ে কথা বলেছেন।” 

প্রতিবেদনের পরের অংশে এনটিভিকে দেওয়া কামাল উদ্দিন তাহেরীর বক্তব্য শোনানো হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “একটা ভিডিও আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পরই আমরা আমাদের জেলাসহ ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলরা বসছি এ বিষয়ে। বসার পরে আমাদের দুই সদস্য বিশিষ্ট একটা তদন্ত টিম গঠন করা হইছে। উনারা তদন্ত করতেছেন। এর আগেই আমরা সাময়িকভাবে উনার পদ স্থগিত রেখেছি এবং পদ থেকে সাময়িকভাবে উনাকে অব্যাহতি দিয়েছি। আর ওই পত্রটা আমাদের টাইপিং চলতেছে, এই টাইপিং আসলেই আমরা আপনাদেরকে দিব, সমস্যা নেই।”

এছাড়াও প্রতিবেদনে শাহাদাত হোসেন জামিলের স্ত্রী উল্লেখ করে এক নারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে ওই নারী বলেন, “আমি উনার… ৬ বছর বিয়ে হইছে। মার্চ মাসের ১২ তারিখ, ২০ সালে বিয়ে হইছে। ৬ বছর হইছে। আমি তো সবসময় এখানে আসি, এমনকি থাকি, রেস্ট নিই, অনেক সময় অনেক কিছু হয়। এইটা নিয়ে মানুষে অনেকটা, অনেক কিছুই বলে। এটা আমি বিচার চাই। আমার স্বামীর প্রতিষ্ঠানের মান সম্মান গেছে, আমি এটার বিচার চাই।” একই প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন শাহাদাত হোসেন জামিলও।

অর্থাৎ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজকে জামায়াতে ইসলামীর নেতার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট