সম্প্রতি, “আজ ৭ই মার্চ তারেক রহমান এর ২০-তম কারাবন্দী দিবস” ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে রশিতে ঝুলিয়ে পেটানো হচ্ছে।
দেখুন এখানে
ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা যায়, রশিতে ঝুলিয়ে পেটানো ব্যক্তি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নন বরং, ২০০৭ সালে রতন কুমার নামে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত একজনকে বগুড়া সদর পুলিশ স্টেশনে নির্যাতনের ভিডিও; যা আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডেইলি স্টারে ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারিতে ‘Police Brutality’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ছবি পাওয়া যায়। উক্ত ছবিটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত ছবিটি সম্পর্কে বলা হয়, “চুরির অভিযোগে আটক রতনকে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি ২০০৭) বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ছাদ থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে পুলিশ তাকে গতকাল (২৬ জানুয়ারি ২০০৭) গ্রেপ্তার দেখায়। ছবি: স্টার” (অনূূদিত)
সংবাদমাধ্যম ‘Haber3’ এর ওয়েবসাইটে ‘বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া ছবি!’ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত) শিরোনামে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনটিতে আলোচিত ভিডিওর কি-ফ্রেমের মিল রয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “দুইটি গলার হার চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত এক চোরকে থানায় “প্যালেস্টাইনিয়ান হ্যাঙ্গার” কৌশল ব্যবহার করে নির্যাতন করা হয়। মোবাইল ফোনে ধারণ করা নির্যাতনের ফুটেজ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি দেশ ও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। বাংলাদেশের বগুড়া শহরের এক থানায়, এই বিশেষ কৌশলে নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ফুটেজ ফাঁস হওয়ার পর তিনজন জিজ্ঞাসাবাদকারী ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হোক,” বিশেষ করে রতন কুমারের ক্ষেত্রে, যার কাছ থেকে দুইটি সোনার গলার হার উদ্ধার করা হয়েছিল।” (স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনূদিত)
অর্থাৎ, ২০০৭ সালে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত রতন কুমারকে রশিতে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ভিডিওকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্যাতনের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
