“বাংলাদেশে একমাত্র দেশপ্রেমিক দল আওয়ামিলীগ ও বিএনপি” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
এধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে
তবে ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ফটোকার্ডটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, আশার আলো নামে একটি ফেসবুক পেইজ থেকে বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে ফটোকার্ডটি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল যমুনা টিভির সংবাদ ফটোকার্ড ধরণ নকল করা হয়েছে এতে। ছবিটির উপরের দিকে বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন আহমেদের ছবি ব্যবহার করে ক্যাপশন লেখা হয়েছে,“বাংলাদেশে একমাত্র দেশপ্রেমিক দল আওয়ামিলীগ ও বিএনপি”। নীচের দিকে বাম পাশে যমুনা টিভির লোগো নকল করে দেয়া হয়েছে জনতা টিভি নামে অপরিচিত একটা লোগো। পাশেই লেখা জনতা টিভির নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক এবং ইউটিউব ঠিকানা। যদিও এধরনের কোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশে নেই।
অন্যদিকে, বিভিন্ন গ্রুপে ছড়ানো পোস্ট বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অনেক নেটিজেন। যেমন: ভিপি আবু সাদিক কায়েম নামে জামায়াত সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপে ফটোকার্ডটি নেটিজেনদের ব্যাপক মনোযোগ আর্কষণ করেছে। সেখানে, পোস্টটিতে ২ শতাধিক প্রতিক্রিয়া এবং শতাধিক শেয়ারের পাশাপাশি মন্তব্য পড়েছে সাড়ে ৩ শতাধিক।
এছাড়াও বিভিন্ন একাউন্ট এবং গ্রুপের পোস্ট গুলোতেও দাবিটি বিশ্বাস করে মন্তব্য করেছেন অনেকে। যেমন: মো. শহীদুল ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “মিলে গেল দুই সাপের বিষ একই”। সাইফুল ইসলাম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “ভুল করে সত্য কথাটা বলে ফেলেছে ধন্যবাদ”। গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া নামে একজন লিখেছেন, “তবে কি আপনারা ইচ্ছে করে বেগম খালেদা জিয়ার কে জেল খাঠাইছেন যদি তা-ই করিয়া থাকেন তবে বাংলা দেশের মাটিতে আপনাদের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ।”
এসম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে বাংলাদেশের কোনো সংবাদ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সালাউদ্দিন আহমেদের এধরনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, যমুনা টেলিভিশনের ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং,“বাংলাদেশে একমাত্র দেশপ্রেমিক দল আওয়ামিলীগ ও বিএনপি” বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এমন বক্তব্য দেননি। একই দাবিতে যমুনা টিভি আদলে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া। যমুনা টিভিও এধরনের কোনো ফটোকার্ড প্রচার করেনি।