সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে Kutub Uddin নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘তারেক রহমানের সমাবেশ থেকে মাইক চুরির সময় উপজেলা শিবিরের সাধারন সম্পাদক গ্রেপ্তার’।
দেখুন এখানে
ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা যায়, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সংগঠনকে জড়িয়ে যমুনা টিভি উল্লিখিত ফটোকার্ডটি প্রচার করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
যমুনা টিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।
আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটির বিষয়ে যাচাইয়ে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, “চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভার আগের দিন গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ১৮টি মাইক এবং ০৫ কয়েল বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভিভিআইপি প্রটোকল ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় চুরির বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন।”
এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কথিত কোনো উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের উল্লেখিত চুরির ঘটনায় গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া যায়নি৷
প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবিটির বিষয়ে জানা যায়, এটি চট্টগ্রামে বিএনপির জনসভা উপলক্ষে মাঠে এক শ্রমিকের মাইক স্থাপন করা চিত্র যা গত ২৪ জানুয়ারি ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় ধারণ করা হয়।
অর্থাৎ, আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবিটির সাথে আলোচিত দাবিটির কোনো সম্পর্ক নেই।
যমুনা টিভি ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবিটির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন নকল করে এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
