ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ছবি প্রচার

সম্প্রতি, ‘মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার জামায়াত নেতা’ শিরোনাম সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

দেখুন এখানে

ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ‘মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার জামায়াত নেতা’ দাবির সপক্ষে কোন সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, প্রচারিত ছবিটি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার খোন্দকারকান্দি গ্রামের হাবিব শেখের। তিনি জামায়াতের কোনো নেতা নন।  

আলোচিত ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে News24 এর ইউটিউব চ্যানেলেব গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ এ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে আটক যুবক দাবি করছে সে তার বউ(স্ত্রী) এর সাথে দেখা করতে এসেছে। ভিডিওতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বলে, “বউ এর সাথে দেখা করতে আসছি।”

জিজ্ঞাসাবাদকারী: কেন তোমার বউর সাথে তো ডিভোর্স হয়ে গেছে?

যুবক: ডিভোর্স হয় নাই তো। বোরকা পইরা আসছি… এই কারণেই যে আমার যদি মানুষ দেখে তাহলে আমার বাড়িতে ঝামেলা করবে।

জিজ্ঞাসাবাদকারী: তুমি কি কোনো দল করো না সংগঠন করো?

যুবক: আমি কোন দল করি না।

জিজ্ঞাসাবাদকারী: তুমি হক সাহেবের দল করো না? কোনো পদে আছো?

যুবক: আমি কোন পদে নাই।

এই ঘটনার সংবাদ দেখুন নিউজ২৪ টেলিভিশনের ইউটিউবে, মাছরাঙা টেলিভিশনের ফেসবুকে, দৈনিক আমার সংবাদের ফেসবুকে

প্রতিবেদনগুলো সুত্রে জানা যায়,গত ২১ জানুয়ারি বোরখা পরিহিত অবস্থায় চাকু ও সন্দেহজনক ওষুধ নিয়ে লোহাচুড়া গ্রামের মুকসুদপুর মডেল মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হাবিব শেখ। সংবাদ পেয়ে মুকসুদপুর থানা এস,আই আজাদ সংগীয় ফোর্স নিয়ে তাকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় নিয়ে আসে।

প্রতিবেদনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কোনো রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 

জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হতে গোপালগঞ্জ শিবিরের জেলা সেক্রেটারির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ওই এলাকায় শিবিরের কোন কমিটি তাদের নেই এবং হাবিব নামের ওই যুবকের সাথে বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক আগেও ছিলোনা এখনো নেই।”

সুতরাং,‘মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার জামায়াত নেতা’ দাবিতে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া এবং ব্যবহৃত ছবিটি ভিন্ন ঘটনার।  

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট