‘দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে।” দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
এসম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে
ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ক
প্রচারিত ভিডিওটি সাথে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা গেছে, সর্বপ্রথম (১৫ জানুয়ারি,২০২৬) উল্লেখিত দাবিতে ১৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় প্রবাহ টিভি নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। এতে দেখা যায়, একজন নারী উপস্থাপক জানাচ্ছেন ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে। ৭টি আসনে যাচাই-বাচাই চলে এবং এরমধ্যে ১৬ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।” এরপরই উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, এবিষয়ে আরও বিস্তারিত জানবো যাচ্ছি সহকর্মী জোবায়ের ইবনে শাহাদাত অপেক্ষা করছেন।”
প্রচারিত ভিডিওটির এ পর্যায়ে উল্লেখিত সহকর্মীকে দেখানো হয় এবং তিনি কথা বলছেন দাবি করা ভিডিওটিতে শোনা যায়, “বৃষ্টি, বিএনপির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তার লন্ডনে এবং বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় এবং তার সম্পদের হিসাব সঠিকভাবে না দেওয়ায় মূলত তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।” এরপর, যমুনা টিভির আরও একজন নারী উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাচাইয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।”
এদিকে, প্রচারিত ভিডিওটি ‘প্রবাহ টিভি’ নামে প্রোফাইলটি থেকে ২০ লক্ষের বেশি বার দেখা হয়েছে। এক লক্ষ ১৮ হাজার প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি শেয়ার করা হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি।
ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির ‘আজকের চট্টগ্রাম’ নামে একটি বিশেষ সংবাদ অনুষ্ঠানের ভিডিও ফ্রেম রিভার্স করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। যমুনা টিভিতে প্রচারিত মূল সংবাদটি দেখুন এখানে
যমুনা টিভির সংবাদটিতে বলা হচ্ছে, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় চট্টগ্রাম- ৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শেষ দিনে চট্টগ্রামের ৭টি আসনে যাচাই বাছাই চলে। এরমধ্যে ১৬ জনের প্রার্থীতা বাতিল হয়। বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।”
মূলত, যমুনা টিভির সংবাদটির ভিডিও অংশ রিভার্স করে প্রচারিত দাবির অডিওটি এতে যুক্ত করা হয়েছে। যমুনা টিভির মূল সংবাদটিতে উপস্থাপিত ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় চট্টগ্রাম- ৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে’ এই অডিওটির জায়গায় সম্পাদনা করে ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে’ অংশটি যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দাবির পক্ষে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম গুলোতে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে।” দাবি করে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত এবং দাবিটিও ভুয়া। তারেক রহমানের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
