জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সাবেক সংগঠক শ্যামলী সুলতানা জেদনী সম্প্রতি আংটি বদল করেছেন। বাগদানের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়—মাত্র দুই মাস আগে জেদনী কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মাসউদকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেন।
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের স্ট্যাটাসটি এরকম:
“শালা ভিক্ষুকের বাচ্চা!
গতবছরও রাস্তার পাশে তোকে ভিক্ষুকের মতো বোতলে পানি খাইতে দেখসি।
আর এখন এতো বড় বড় লেকচার?
ফকিন্নির পুত!”
এই স্ক্রিনশট দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে—জেদ থেকেই শ্যামলী সুলতানা জেদনীকে জোর করে বিয়ে করেছেন মাসউদ। এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া এই স্ট্যাটাসটি এডিট করা। চলতি বছরের ১১ জুন শ্যামলী সুলতানা জেদনী একটি পোস্টে হান্নান মাসউদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ভাইরাল স্ক্রিনশটে থাকা গালাগালপূর্ণ কথাগুলো সেই পোস্টে ছিল না—বরং পরবর্তীতে ক্যাপশনটি এডিট করে মনগড়া ভাষা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
মূল পোস্টে জেদনী লিখেছিলেন—
“হান্নান মাসউদের নেতৃত্বকে আপনারা অস্বীকার করছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, মশকরা করছেন। অথচ আপনাদের উচিত ছিলো যাদের কারণে গুলিবিদ্ধ হইছে, তাদেরকে উৎখাত করার বন্দোবস্ত করা।”
ছবি, তারিখ এবং প্রোফাইল ছবি একই হলেও পোস্টের ভাষা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এছাড়া শ্যামলী সুলতানা জেদনীর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনায় এমন কোনো পোস্টের সন্ধান পাওয়া যায়নি, যার ভাষা বা বক্তব্য ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তার টাইমলাইনেও আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো লেখা কিংবা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এতে স্পষ্ট, একটি পুরোনো পোস্টের চিত্র ও তথ্য ধরে ক্যাপশন বিকৃত করে ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে তা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হয়েছে।
অর্থাৎ, হান্নান মাসউদকে ঘিরে শ্যামলী সুলতানা জেদনীর নামে ছড়ানো স্ট্যাটাসটি সম্পাদিত ও ভিত্তিহীন—তিনি এ ধরনের কোনো পোস্ট দেননি।
