সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানকে শোকজ করার পর তাঁর গ্রামের বাড়িতে এনসিপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আগুন দিয়েছে। এসব পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে—“ফ্যাসিস্ট ইউনুছের বিরুদ্ধে কথা বললেই পরিকল্পিতভাবে মব হামলা সংগঠিত হচ্ছে।” এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে এখানে।
যাচাইয়ে দেখা গেছে ভিত্তিহীনভাবে দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
ফ্যাক্ট অর ফলসের যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বাড়ির কোনো দৃশ্য নয়। ভিডিওটির কী–ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘কিশোরগঞ্জে মাদক ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত–১’- শিরোনামে ‘কালের নতুন সংবাদ’ নামের একটি স্থানীয় নিউজ পোর্টালের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সাথে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
আরও যাচাইয়ে দেখা যায়, ২২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রথম আলো–তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একই ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই পুরান বাজার এলাকায় যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে হিমেল মিয়া নামের এক যুবক নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়।
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ উভয়েই নিশ্চিত করেছে যে এটি ছিল যুবদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের। এখানে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
অতএব, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবি যে ফজলুর রহমানকে শোকজ করার পর তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে—তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি আসলে কিশোরগঞ্জে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং পরবর্তী অগ্নিসংযোগের ঘটনা থেকে নেওয়া, যার সঙ্গে ফজলুর রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই।