সাতক্ষীরায় জামায়াত কর্তৃক হিন্দু নারীর উপর নির্যাতনের দাবিটি সঠিক নয়

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যায়,  এক নারীকে বিদ্যুতের পিলারের সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে।

ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও এক্স হ্যান্ডল থেকে বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামী ও উগ্রপন্থী জঙ্গিদের দ্বারা একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হয়।
কিছু কিছু পোস্টে বলা হয় বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন লোক এক হিন্দু মেয়েকে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিচ্ছে। ইউনুস সরকার পরিচালিত বাংলাদেশে হিন্দু হওয়া একটা শাস্তি।

এধরণের কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানেএখানে

তবে যাচাইয়ে জানা যায়, ঘটনাটি সাতক্ষীরার নয় বরং রাজধানীর গুলশানের নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজারের। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা এর সাথে জড়িত থাকারও কোন প্রমান পাওয়া যায়নি।

যাচাইয়ের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে এ বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলোতে ৪ জানুয়ারি “রাজধানীতে শীতের সকালে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, “চুরির অভিযোগে গত ২ জানুয়ারি গুলশানের নদ্দা এলাকার মারকাযুত তা’লীম আল- ইসলামী মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র এক নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ঠান্ডা পানি ঢেলে দেয়। এ ঘটনার ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ  ৩ তারিখ রাতেই  ভিডিও থেকে শনাক্ত করে ৫জনকে গ্রেফতার করে।”

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে মাদ্রাসার লোকজনের বরাতে জানা যায়, মাদ্রাসার দুই শিশুশিক্ষার্থী দেখতে পায়, ওই নারী মাদ্রাসার লোকমান নামের একজন শিক্ষকের কক্ষে তাঁর হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিচ্ছেন। শিশুশিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে পাশের কক্ষ থেকে একরাম নামের আরেক শিক্ষক বেরিয়ে আসেন এবং ওই নারীকে আটক করেন। ওই নারীকে তাঁরা পুলিশে সোপর্দ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এত সকালে ‘পুলিশ কোথায় পাবেন’—সেই চিন্তা করে নারীকে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন ওই নারীকে উত্তরাগামী একটি বাসে তুলে দেন।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে এখনও পুলিশ জানতে পারেনি। 

প্রতিবেদনে কোথাও এই ঘটানার সাথে জামায়াত ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্স-এ জামায়াতে ইসলামী ও উগ্রপন্থী জঙ্গিদের দ্বারা একজন সংখ্যালঘু  সম্প্রদায়ের নারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ভিডিও বলে প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। 

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট