ভারত বিরোধী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে হতে দিবো না—এমন কথা বলেননি মির্জা ফখরুল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৈনিক আমার দেশ সহ সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা ভারত বিরোধী কোন কর্মকান্ড বাংলাদেশে হতে দিবো না, কখনো মানবো না”।

এরকম বক্তব্য সম্বলিত ফটোকার্ড দেখুন এখানে, এখানে

কিন্তু ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন কোনো বক্তব্য দেননি। 

উক্ত দাবিতে ছড়ানো ফটোকার্ডগুলোতে কোনো সংবাদমাধ্যমের নাম না থাকলেও একটি ফটোকার্ড দৈনিক আমার দেশের আদলে তৈরি। সেখানে তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০২৬। কিন্তু উল্লিখিত তারিখে আমার দেশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এমন বক্তব্য সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের সাথে আমার দেশের ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অসামঞ্জস্যতা রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, ফটোকার্ডটি ভুয়া। এছাড়া আমার দেশের ওয়েবসাইটেও এমন বক্তব্য সম্বলিত কোনো নিউজ খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

তাছাড়া মির্জা ফখরুল যদি এমন বক্তব্য দিতেন তাহলে তা সংবাদমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হতো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড সার্চ করে কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে তার এধরণের বক্তব্য সম্বলিত নিউজ খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

আরো যাচাইয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বরং ভারত নিয়ে ফটোকার্ডগুলোতে উল্লিখিত দাবির বিপরীত বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়।  

যাচাইয়ে ডেইলি স্টারে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ এ “বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ভারতকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪-এ লন্ডনে এক সমাবেশে “ভারতকে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান” জানান মির্জা ফখরুল।

সমাবেশে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা অনেক ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জন করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় আমাদের সহযোগিতা করেছিল। আমরা সবসময় প্রত্যাশা করি ভারত বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে। কোনো একটা বিশেষ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, একথা আমরা প্রত্যাশা করি।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা আশা করি ভারত অতীতে যে ভুল করেছে এবং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করেছে এটাকে তারা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে এবং তাদের এখন যে কার্যকলাপ যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে করছে সেই কার্যকলাপ তারা বন্ধ করবে।”

সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত তার বক্তব্যটি দেখুন এখানে

 সুতরাং, ভারত নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে ছড়ানো উক্ত বক্তব্যটি অসত্য এবং ফটোকার্ডগুলো ভুয়া।

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট