সম্প্রতি, “সেনাবাহিনীর অভিযানে ১ ট্রাক ভারতীয় অস্ত্রসহ নির্বাচনের আগে গ্রেফতার মির্জা আব্বাস !!” ক্যাপশনে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পোস্ট করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।
দেখুন এখানে
ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা যায়, ১ ট্রাক ভারতীয় অস্ত্রসহ নির্বাচনের আগে মির্জা আব্বাসের গ্রেফতারের দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে গত বছরে নিউমার্কেট থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ছবি ও এআই দিয়ে সেনাবাহিনীর সাথে মির্জা আব্বাসের দৃশ্য তৈরি করে আলোচিত ভুয়া এই দাবি প্রচার করে হয়েছে।
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে আলোচিত দাবির সপক্ষে বেশকিছু অস্ত্রের একটি ছবি ও সেনাবাহিনীর সাথে মির্জা আব্বাস দাবিতে একটি দৃশ্যের সংযুক্তি পাওয়া যায়।
অস্ত্রের ছবির বিষয়ে যাচাইয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘ইত্তেফাক’ এর ফেসবুক পেজে গত বছরের ১০ আগস্টে প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে ৭টি ছবির সংযুক্তি পাওয়া যায় যার একটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত অস্ত্রের ছবির মিল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে ইত্তেফাকের পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, ‘দেশীও অ’ স্ত্রের বিক্রয় কেন্দ্র ও গু’দাম থেকে বিপুল পরিমাণ অ/ স্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার (৯ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অস্ত্রে গুদাম রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে এসব দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।’
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে মূলধারার গণমাধ্যম ‘এখন টিভি’র ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে গত বছরের ১০ আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ দেশিয় অস্ত্র জব্দ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া এখন পর্যন্ত মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ৩০৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সেনাক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কিশোর গ্যাংয়ের শোডাউনে এ ধরনের অস্ত্র দেখা যায়, যা সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিচ্ছে একটি চক্র। নিউমার্কেটের তিনটি দোকানের গোপন স্থান থেকে এগুলো জব্দ করা হয়েছে।’ এর সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকে বলেও জানান তিনি। তবে এখন টিভির প্রতিবেদনে কোথাও এ ঘটনায় মির্জা আব্বাসের সম্পৃক্ততার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হাতে মির্জা আব্বাস আটক দাবিতে প্রচারিত দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করলে পারিপার্শ্বিক দৃশ্য, মির্জা আব্বাস ও সেনাবাহিনীর গঠন ও ত্বকে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কনটেন্টে লক্ষ্য করা যায়।
সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানে মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে শীর্ষক দাবিটি গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে প্রচার করা হলেও এর পরবর্তী সময়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে মির্জা আব্বাসকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১ ট্রাক ভারতীয় অস্ত্রসহ নির্বাচনের আগে মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।
