সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি দাবি প্রচার করা হচ্ছে যে ইউরোপের গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে শিবিরের একজন সমন্বয়ক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে মাত্র ৭ জন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। আর বাকিদের শিবির হত্যা করেছে। এসব দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
যাচাইয়ে দেখা গেছে, সূত্রহীন ভাবে দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
এসব পোস্টে দাবি করা হয়েছে শিবিরের একজন ‘সমন্বয়ক’ ইউরোপীয় গণমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন। তবে কোথাও ওই সমন্বয়কের নাম, পদবি বা কোন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। বিভিন্ন কী–ওয়ার্ড সার্চ করেও দেশীয় বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কোনো সমন্বয়কের এমন স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি গেজেটে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। এছাড়া এ পর্যন্ত সারা দেশে আহত ১২ হাজার ৪৩ জনের নাম এসেছে সরকারি গেজেটে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, এই আন্দোলনে তৎকালীন সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্ন হত্যাকান্ডে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সাথে যৌথভাবে হামলা চালায়, আন্দোলনকারীদের মারধর করে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। ছাত্রলীগের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতিতেই সহিংসতায় জড়িত ছিল, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে । বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
এসব তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় ভিত্তিহীনভাবে দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।