সম্প্রতি, পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে পিটিয়ে ও পাথর দিয়ে থেঁতলে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে। এই হত্যার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, এবং দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই হত্যাকান্ড নিয়ে এনডিটিভিসসহ বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিহত সোহাগকে হিন্দু দাবি করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে এনডিটিভি শিরোনাম করেছে, ‘Hindu Trader Lynched In Bangladesh, Attackers Dance On His Body’. এছাড়া একই বিষয়ে ইন্ডিয়া টুডের শিরোনাম– ‘Hindu trader beaten to death with concrete slabs in Bangladesh; attackers dance on body’. অর্থাৎ এনডিটিভি এবং ইন্ডিয়া টুডে নিহত সোহাগকে হিন্দু ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, নিহত লালচাঁদ ওরফে সোহাগ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। মুসলিম রীতি অনুযায়ী তার মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তার বাবার নাম আইউব আলী এবং মা আলেয়া বেগম।
এনডিটিভির প্রতিবেদনের শিরোনামে সোহাগকে হিন্দু বলে উল্লেখ করা হলেও, পুরো প্রতিবেদনের কোথাও তার ধর্মীয় পরিচয় বা বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদ পোর্টাল Republic World, inshorts, indiablooms সহ আরও বেশকিছু সংবাদমাধ্যমও। ভারতীয় এসব মিডিয়ার প্রায় সবগুলো প্রতিবেদন একইরকম, অর্থাৎ একটি প্রতিবেদনই কিছুটা সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছে অন্য সংবাদমাধ্যম।
প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার পেছনে কোনো সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট নেই। চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। এতে কোনো ধর্মীয় উত্তেজনা ছিল না।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে একাধিক সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তথ্যের যথাযথ যাচাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ও উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলীকে সাম্প্রদায়িক রং মিশিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সুতরাং, আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগকে ভারতীয় মিডিয়ার হিন্দু ব্যবসায়ী বলে প্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা