সম্প্রতি একাধিক সামাজিক মাধ্যমে “যশোরে যুবলীগ নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ইউনুস বাহিনী” শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেয়া হচ্ছে। এ দাবি সংক্রান্ত পোস্টগুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওগুলো সাড়ে ৫ লক্ষের অধিকবার দেখা হয়েছে, আড়াই হাজার এর অধিক রিয়েকশন, ৩৭০ এর অধিক কমেন্টস ও সাড়ে ৩ হাজার এর অধিকবার শেয়ার করা হয়েছে।
কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায় ঘটনাটি যশোরে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার নয়। বরং নড়াইলের রূপগঞ্জে ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি দেয়ার ঘটনা।
প্রচারিত ভিডিওটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ১৪ আগস্টের Tipu Sardar নামক ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায় (আর্কাইভ) যার শিরোনাম ছিলো “নড়াইলে রুপগঞ্জ বাজারে ছিনতাইকারীকে গণধোলাই দিলো জনতা।” ভিডিওটির সাথে প্রচারিত ভিডিওতে পিটুনির শিকার ব্যক্তির মিল পাওয়া যায়। এ বিষয়ে নড়াইলে স্থানীয় সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম CA Press Wing Facts কে জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় হাটবাজার এলাকায় এক মহিলার গলার চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এসময় স্থানীয় জনগণ ছিনতাইয়ের অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এছাড়া নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম CA Press Wing Facts কে জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ যশোরে যুবলীগে নেতাকে পিটিয়ে হত্যার যে দাবিটি করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। ঘটনাটি যশোরে তো নয়ই, ব্যক্তিটিও যুবলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। গণপিটুনির শিকার লোকটিও মারা যায়নি।
এছাড়াও সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ভুয়া তথ্যের সাথে ছড়ানোর অভিযোগে ১৬ আগস্ট শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আরবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন সাজুকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
এ সংক্রান্ত সংবাদ গুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

