সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক যুবককে কয়েকজন ব্যক্তি নির্মমভাবে পেটাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থক কিছু ফেসবুক পেজ ও আইডি এই ভিডিও শেয়ার করে দাবি করছে:
“ভোলায় বিএনপি যুবদলের কর্মীরা দিনদুপুরে আমাদের ভাইটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। তার অপরাধ সে আওয়ামী লীগের সাধারণ একজন কর্মী। ইনশাআল্লাহ এই হত্যার বিচার বাংলার জমিনে হবেই হবে।”
ফ্যাক্ট অর ফলসের যাচাইয়ে দেখো গেছে, এটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার ভিডিও নয়। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি নেপালের কোটেশ্বর এলাকায় পুলিশের ওপর বিক্ষোভকারীদের হামলার একটি ঘটনার দৃশ্য।
ভিডিওটির কয়েকটি কী–ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, এটি ইতোমধ্যে একাধিক X (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছে। এসব পোস্টে একই ভিডিও ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেগুলোর ক্যাপশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ঘটনাটি নেপালের, বিশেষ করে কাঠমান্ডুর কোটেশ্বর এলাকায় পুলিশের ওপর বিক্ষোভকারীদের হামলার দৃশ্য। উল্লেখযোগ্য এমন কিছু পোস্টের লিঙ্ক দেখুন এখানে এখানে।
আরও অনুসন্ধানে, নেপালের ইংরেজি নিউজপোর্টাল KHABARHUB.COM–এ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যার শিরোনাম:“Three police officers killed after surrendering in Koteshwor“। এই প্রতিবেদনে বলা হয়,
“কাঠমান্ডুর কোটেশ্বর এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ করার পরও তাদের পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা প্রথমে একটি পুলিশ অফিসে আগুন লাগায় এবং পরে পুলিশ সদস্যদের রাস্তায় টেনে এনে মারধর করে। নেপাল পুলিশের সদরদপ্তর এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’ উল্লেখ করে।”
এই বর্ণনার সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর চিত্রের মিল পাওয়া যায় — যেখানে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে আছেন এবং তাকে ঘিরে থাকা জনতা ধারাবাহিকভাবে লাঠি ও লাথি দিয়ে মারছে।
অর্থাৎ প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের ভোলার বা কোনো বিএনপি–আওয়ামী লীগ বিরোধের ঘটনা নয়। এটি নেপালের একটি সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার ভিডিও, যেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়।