সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি একজন নারী শিক্ষার্থীকে ‘দেহ ব্যবসায়ী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে—“শুরু হয়ে গেছে ডাকসুতে শিবিরের নির্যাতন”, “ডাকসুর সুফল পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা”, “এক নারী শিক্ষার্থীকে দেহ ব্যবসায়ী বলে আখ্যা দিলেন বর্তমান ভিপি।”
শেয়ারকৃত এসব ক্যাপশনে আরও দাবি করা হয়, “ঢাবি ডাকসু শিবির বলছে – নারী শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পরে হলের বাইরে থাকলেই সবগুলোই দেহ ব্যবসায়ী। এই কয়েক দিনেই ডাকসু শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের দেহ ব্যবসায়ী তকমা লাগিয়ে দিল।” এমন দাবিতে প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ঘটনার নয়। বরং এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি ঘটনার আংশিক অংশ, যেখানে ছাত্রদল–সংশ্লিষ্ট এক নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে অংশ নেন।
ভিডিওটির কয়েকটি দৃশ্য (কী–ফ্রেম) রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা যায়, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ “Rajshahi News24” নামক একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ক্লিপটির মিল রয়েছে। ঐ ভিডিওটির শিরোনাম ছিল: “ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ৯১ ছাত্রীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলায় রাবিতে বিক্ষোভ…”*। ভাইরাল হওয়া অংশটিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও ভিডিও অ্যাঙ্গেল মূল ভিডিওটির সঙ্গেই হুবহু মিলে যায়।
উক্ত সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে গত ৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তর–এ প্রকাশিত “ছাত্রীদের ‘যৌনকর্মী’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই ৩৬’ হলের ৯১ জন ছাত্রী নির্ধারিত সময়ের পরে হলে প্রবেশ করায় হল প্রশাসন তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিলে, ছাত্রদলের শাহ মখদুম হল শাখার সহ–সভাপতি এ আর মিলন খান একটি ফেসবুক মন্তব্যে ওই ছাত্রীদের ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলে উল্লেখ করেন। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাবি ক্যাম্পাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যটি মিলন খান নিজেই করেছেন এবং তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে গা–ঢাকা দেন। পরবর্তীতে রাবি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয় এবং মতিহার থানায় মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওতে যে দাবি করা হয়েছে—ডাকসুর ভিপি এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘দেহ ব্যবসায়ী’ বলেছেন—তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন; ভিডিওটিতে ডাকসুর ভিপির কোনো বক্তব্য বা সম্পৃক্ততা নেই। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভিন্ন ঘটনার আংশিক অংশ, যা ঢাবির নামে ভুয়া ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।
