হাটহাজারী মন্দিরে কুরআন শরীফ পোড়ানোর মিথ্যা দাবি প্রচার 

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে,চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নেহারপুল এলাকার হরি ডাক্তারের বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দিরে দেবদেবীর সামনে পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়ানো হয়েছে।শেয়ারকৃত এসব পোস্টের ক্যাপশনে আরও দাবি করা হয়েছে, এটি কোনো ভারতের ঘটনা নয়এটি বাংলাদেশেই ঘটেছে। এই ঘটনায় প্রশাসন নিশ্চুপ, ফলে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে। 

তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি একটি ভিত্তিহীন দাবি। ভিডিওটির সঙ্গে হাটহাজারী বা বাংলাদেশের কোনো ঘটনার বাস্তব সম্পর্ক নেই। 

এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যেখানে ভিডিওটির তথ্যবস্তুকে পুরোপুরি মিথ্যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসামাত্রই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাটহাজারী থানার ওসি   স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, ভিডিওতে যে মন্দিরকে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে হাটহাজারীতে এমন কোনো মন্দিরের অস্তিত্ব নেই।

তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় যে মন্দিরটি নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে, সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়মেঝেতে কোনো টাইলস নেই, অথচ ভিডিওতে স্পষ্টভাবে টাইলস দেখা যাচ্ছে। কেবলমাত্র দ্বিতীয় তলার একটি ছোট কক্ষে কিছু আলাদা ধরনের টাইলস রয়েছে, যা ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে মেলেনি। ভিডিওতে দুর্গা প্রতিমা দেখা গেলেও, তদন্তে জানা যায় যে মন্দিরে এখনো দুর্গাপূজার কোনো প্রতিমা স্থাপনই হয়নি। সেখানে শুধু একটি স্থায়ী কালী প্রতিমা রয়েছে, যা ভিডিওতে থাকা অস্থায়ী প্রতিমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পুলিশের অনুসন্ধানে আরও নিশ্চিত হওয়া গেছে, হাটহাজারী থানাধীন এলাকায় এমন কোনো মন্দির নেই যার অবকাঠামো বা ভেতরের দৃশ্য ভিডিওর সাথে মেলে। ফলে পুলিশের মতে, ভিডিওটি অন্যত্র ধারণ করা এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ টেনে তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যাতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছেধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে এমন বিভ্রান্তিমূলক প্রচার আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশ সাইবার দুনিয়া এবং মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইতোমধ্যে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

ফলে যাচাইয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, হাটহাজারীতে কোরআন পোড়ানোর যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটির সঙ্গে হাটহাজারী বা বাংলাদেশের কোনো ঘটনার বাস্তব সম্পর্ক নেই। 

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট