সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে দাবি করা হচ্ছে যে, সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটন এলাকায় পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িতে উত্তেজিত জনতা হামলা চালিয়েছে ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে। ফেসবুকে শেয়ারকৃত এসব ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে— “এই মাত্র পাওয়া… উপদেষ্টা রেজওয়ানার গাড়ি ভাংচুর করেছে উত্তেজিত জনতা… সাধারণ মানুষ এভাবেই গণধোলাই দেবে এখন উপদেষ্টাদের।“ আরও দাবি করা হচ্ছে, তিনি সাধারণ মানুষের রোষানল থেকে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে।
তবে ফ্যাক্ট অর ফলসের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিত্তিহীনভাবে এই দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের গাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভাইরাল ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ঘটনার— যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর কিছু কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা যায়, এটি গত ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে ‘Sajed Sylhet-সাজেদ সিলেট’ নামের একটি ফেসবুক পেজে “সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরে পর্যটকদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর” শিরোনামে প্রকাশিত হয়। দৃশ্য ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সাথে এই ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।
উক্ত সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কী–ওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো–তে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত ‘সিলেটে পর্যটকবাহী যানবাহনে আন্দোলনকারীদের হামলা, আটক ২’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার থানাবাজার এলাকায় পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অন্তত পাঁচটি পর্যটকবাহী গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি পরিবারসহ সাদা পাথর ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁদের গাড়িতে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। কাচ ভাঙার ফলে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা আঘাতপ্রাপ্ত হন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবিতে যে গাড়ির ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাওয়া দৃশ্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এতে স্পষ্ট হয়—ওই গাড়িটি পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নয়, বরং সাধারণ পর্যটকদের একটি বাহনই হামলার শিকার হয়েছিল।
অর্থাৎ, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের গাড়ি ভাঙচুরের নয়, বরং এটি সাধারণ পর্যটকদের গাড়িতে হামলার একটি ঘটনা— যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং, “উপদেষ্টার গাড়ি ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা”—এই শিরোনামে সামাজিক মাধ্যমে যেসব ভিডিও ও তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া এবং মিথ্যা।
