রাওয়ালপিন্ডিতে গ্যাস লিকেজের ধোয়ায় অজ্ঞানের ঘটনাকে ইসলামাবাদের পার্লারে ১৬ নারীকে গণধর্ষণ দাবিতে প্রচার

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি বিউটি পার্লারে কর্মরত ১৬ জন নারীকে দিনেদুপুরে একত্রে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন নারীকে মেঝেতে শুয়ে থাকতে এবং আশপাশে অন্যদের হট্টগোল করতে দেখা যায়। শেয়ারকৃত এসব ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, মেয়েরা ঘরে না থেকে পার্লারে গিয়েআখেরাত নষ্ট করছে”, কারণেই মৌলবাদীরা তাদের ধর্ষণ করেছে।

ফেসবুকে এরূপ দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে। ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এখানে। থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে। 

তবে ভিডিওটির রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং অন্যান্য অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়, প্রচারিত এই দাবিটি সত্য নয়। এই ভিডিওটি হুবহু পাওয়া যায় “Media Bites” নামের একটি ফেসবুক পেইজে, যেখানে ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা রয়েছে: “Accidental generator gas leakage at a beauty salon in Rawalpindi causes female employees to faint, sparking panic and urgent rescue efforts.” অর্থাৎ, ইসলামাবাদ নয়ঘটনাটি ঘটেছে রাওয়ালপিন্ডিতে। এবং ধর্ষণের মতো কোনো অপরাধ নয়। প্রকৃতপক্ষে একটি পার্লারে জেনারেটরের গ্যাস লিক করে ধোঁয়ার কারণে ওই নারীরা অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

একই ভিডিও “MEGA News” নামক একটি আরেকটি ফেসবুক পেইজেও পাওয়া গেছে। সেখানে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে: “10 women lose consciousness due to generator smoke in Rawalpindi beauty salon.” উভয় ক্ষেত্রেই কোনো যৌন সহিংসতার উল্লেখ নেই। বরং দুর্ঘটনাজনিত অজ্ঞান হওয়াকে কেন্দ্র করেই মূল ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তানের কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি কাভার করা হয়েছে। যেমন, Capital TV, Headline News নামের সংবাদমাধ্যমগুলোর ইউটিউব চ্যানেলে “Girls faint at Lash Popular Beauty Parlor rawalpindi commercial market” শিরোনামে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে এই একই ভিডিও ঘটনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লারের কর্মীরা পার্লারের ভেতরে বন্ধ কক্ষে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে জেনারেটরের ধোঁয়া জমে গিয়েছিল, যার ফলে একে একে সবাই অজ্ঞান হয়ে যান। ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং রেসকিউ টিম গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই ধরনের ঘটনা পাকিস্তানে একেবারেই নতুন নয়। এর আগেও রাওয়ালপিন্ডি আশপাশের এলাকায় গ্যাস বা ধোঁয়ার কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যার খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রেক্ষাপট বিচার করলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, ভাইরাল ভিডিওটি ধর্ষণের কোনো ঘটনার নয় বরং একটি দুর্ঘটনার দৃশ্যযেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং, “ইসলামাবাদের পার্লারে ১৬ নারীকে দিনেদুপুরে গণধর্ষণশিরোনামে প্রচারিত ভিডিও এবং সংযুক্ত দাবি পুরোপুরি ভুয়া বিভ্রান্তিকর। এটি মূলত রাওয়ালপিন্ডির একটি বিউটি পার্লারে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ভিডিও, যা সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা ব্যাখ্যা দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে।

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট