তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ছে যেখানে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান কে উদ্ধৃতি করে দাবি করা হচ্ছে, “চীফ প্রসিকিউটর থেকে শুরু করে সবাই জামাতি প্রোডাক্ট। তারেক রহমানের সাথে আজ সকালে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, “হাসিনার ট্রায়াল করবো আমরা মুক্তিযুদ্ধপন্থীরা, ৭১-এর রাজাকাররা নয়।”

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)

ফ্যাক্ট অর ফলস টিমের যাচাইয়ে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান হুবহু একথা বলেনি।

যাচাইয়ে ফজলুর রহমানের একটি বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় কালের কন্ঠের ইউটিউব চ্যানেলে।

ফজলুর রহমান বলছেন, “এই যে ট্রাইব্যুনালটা তারা করছে, এই বিচারটা তো টিকবে না। আমি আইনজীবী হিসেবে বলতেছি, আমি বিএনপির নেতা হিসেবে বলতেছি না। সিনিয়র এডভোকেট হিসেবে বলতেছি—এই বিচারটা টিকবে না যে ট্রাইব্যুনালে হইছে। কারণ এই ট্রাইব্যুনালটা গঠিত হয়েছিল ৭৩ সনের আইনে আল বদর, রাজাকার, আলশামস এবং দালালদের বিচার করার জন্য—যারা এদেশের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার সহযোগী ছিল। সেই ট্রাইব্যুনালে এখন শেখ হাসিনা হলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরাজিত ব্যক্তি বা দল। আপনি এটাকে গণঅভ্যুত্থান বলতে পারেন, কিন্তু এটা কোনো কারণেই ‘যুদ্ধ’ না। যুদ্ধ হলে দুই পক্ষে রাইফেল দেয়া হয়। দুই পক্ষে যুদ্ধ হয়। সেটার নাম হলো যুদ্ধ। এটা যুদ্ধ অপরাধ না।

কাজেই এই ট্রাইব্যুনাল যেটা করা হয়েছে, এটা নির্মোহভাবে করা হয় নাই। নিরপেক্ষভাবে করা হয় নাই। এই ট্রাইব্যুনাল—যে ট্রাইব্যুনালে ৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হইছে—এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমান অপরাধীদের বিচার হইতে পারে না বলে সবাই মনে করে। আবার এই ট্রাইব্যুনালে যিনি প্রসিকিউশনে আইনজীবী আছেন, উনি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। এখন আবার উনি আজকের যে অপরাধী, তাদেরকে সাজা দেওয়ার জন্য প্রসিকিউটর হইছে। হ্যাঁ, ‘তুমি হইলা বরের পিসি, কনের মাসি’। বরের পিসি কনের মাসি হয়ে তো একটা বিচার হতে পারে না। যিনি প্রসিকিউটর হবেন, তিনি হবেন একদম নিরপেক্ষ। জনাব তাজুল ইসলাম, উনি তো শিবিরের কর্মী। উনি তো শিবিরের রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে যারা হত্যা হইছে… ওই সময়ের খুনের আসামি। তাইলে কি বলব আমি? যে উকিলের নামে শিবিরের লোকজন বিচার করল কাদের? যারা এই দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করছিল তাদের।

আমি বিচারের ব্যাপারে আমার কোনো কথা নাই। কিন্তু প্রশ্নটা কী উঠবে? এই প্রশ্নটা এখন না হোক, যদি ২৬ সনের দিকে ইলেকশন হয়, এমনকি যদি বিএনপিও ক্ষমতায় যায়, জনাব তারেক রহমানও যদি প্রধানমন্ত্রী হয়—তখন তো কোর্টগুলা গণতান্ত্রিক হবে। তখন রিট বেঞ্চগুলো রিয়েলভাবে আসবে। রিটে গিয়ে যদি তখন কেউ প্রশ্ন করে যে—’মাই লর্ড, এদের যে ফাঁসি দেয়া হয়েছে যেই কোর্টে, সেই কোর্টটার গঠন প্রক্রিয়া ঠিক ছিল না’। আমি নিশ্চিত, আমি যতটুকু আইন লেখাপড়া করছি…এই প্রশ্নটা উঠবে। এবং যদি হাইকোর্ট রায় দিয়ে দেয় যে ওই কোর্টটা সঠিকভাবে গঠন করা হয় নাই, তখন কী হবে? যাদেরকে আপনি ফাঁসি দিলেন, তখন তো বলবে যে কোর্টই তো সঠিক ছিল না, তার রায়ের কী মূল্য আছে?”

ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে প্রধান প্রসিকিউটরকে শিবির সংশ্লিষ্ট বললেও এই ব্যাপারে তারেক রহমানের সাথে ‘আজ সকালে কথা হয়েছে’ এমন কিছু বলেননি৷ এছাড়া তিনি এটাও বলেননি যে তারেক রহমান বলেছে, “হাসিনার ট্রায়াল করবো আমরা মুক্তিযুদ্ধপন্থীরা, ৭১-এর রাজাকাররা নয়।” অনলাইনে বিস্তারিত সার্চ করেও ফজলুর রহমানের এমন কোন বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফলে তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রসিকিউটরদের ব্যাপারে ফজলুর রহমানের বরাতে যে বক্তব্যটি ছড়ানো হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর। 

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট