খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় নিয়ে গুজব: কী বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান?

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া  মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬ টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খালেদা জিয়ার মৃত‍্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তার ব‍্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘোষনার পর থেকে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে গুজব। কেউ কেউ দাবি করে যে খালেদা জিয়া পূর্বেই মারা গিয়েছেন এবং তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লাশের রাজনীতি করেছেন।

অনেকেই দাবি করছেন খালেদা জিয়া আগেই মারা গিয়েছেন এবং তাকে আইসিউতে রাখা হয়েছে।

মারা যাওয়ার পর আইসিউতে রাখা সম্ভব? 

Society of Critical Care Medicine এ প্রকাশিত আর্টিকেল “ICU Admission, Discharge, and Triage Guidelines” অনুযায়ী, ‘মৃত’ বা ‘মস্তিষ্কের মৃত্যু (brain death)’ ঘোষিত রোগীকে আইসিইউতে রাখা হয় না, বরং ‘প্রায় মৃত’ বা ‘ভেন্টিলেটরে থাকা’ গুরুতর অসুস্থ রোগীকে রাখা হয়, যাদের জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করা হয়।

“মৃত মানুষকে কতদিন ICU তে রাখা যায়?” শিরোনামের একটি ভিডিওতে  ডা. সাকলায়েন রাসেল জানান, একজন মানুষের হৃদস্পন্দন যতক্ষণ সচল থাকে, ততক্ষণই তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় জীবিত ধরা হয়। হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে কোনো মেশিন দিয়েই তাকে আর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মানুষ মারা যাওয়ার পর শরীরে দ্রুত পচন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে। আইসিইউ-র পরিবেশে কোনো মৃত মানুষকে পচন ছাড়াই দিনের পর দিন রেখে দেওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একেবারেই অসম্ভব।

তিনি আরো বলেন, “এই যে পচন প্রক্রিয়াটা এটা আপনি ঠেকাতে পারেন কিভাবে জানেন? একেবারে ডিপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখলেন ডেড বডিটাকে, ফ্রিজিং করে রাখলেন হয়তো কয়েকটা দিন মাত্র। কিন্তু আপনি আইসিইউতে রেখে দিনের পর দিন একজন মৃত মানুষকে রেখে দিবেন মেশিন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখবেন—এটা একেবারেই কল্পকাহিনী, রূপকথার গল্পের মত। এটা কোনভাবেই সম্ভব না, একেবারেই অসম্ভব ঘটনা।”

ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এর রেজিস্টার ডা. ফেরদৌস মাহমুদ মেডিভয়েস – MediVoice এর একটি ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে জানান, ‘মৃত মানুষকে আইসিইউতে রাখা কখনোই সম্ভব না।’

ডা. ফেরদৌস মাহমুদ বলেন, “মৃতকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বা রাখা হয় এটা আসলে একটা মিথ। এটা সবাই বলে কিন্তু এটা কখনোই পসিবল না।  মৃত মানুষকে কখনো আইসিইউতে রাখা যায়? যে মারা যায় সে মারাই যায় আসলে। হয় কি বিষয়টা হলো যে কিছু মানুষ থাকে যারা আসলে অজ্ঞান থাকেন, যাদের জ্ঞান থাকে না, তাদের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনাটাও খুবই কম থাকে। কিন্তু তখনও তার হার্ট চালু, তার কিডনি চালু, তার ইন্টারনাল অর্গান যা আছে শরীরের ভেতরে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যা আছে সবকিছুই চালু আছে। শুধু সে শ্বাস নিতে পারছে না, হয়তো তার জ্ঞানও নাই। তখন তাকে তাকে শ্বাসের সাপোর্টটা মূলত দিতে পারে। এই শ্বাসের সাপোর্টটাই ভেন্টিলেটর মেশিন থেকে আসে। সেটা আমাদের ফুসফুস যেরকম বাতাস নেয় ছাড়ে, শ্বাস নেয় ছাড়ে, মেশিনটা তখন তখন সেইটার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে কাজ করে। যেমন কারো কিডনি যদি নষ্ট হয়ে যায় ডায়ালাইসিস লাগে, তো ঠিক একই রকমভাবে কিডনির কাজটা তো আসলে ডায়ালাইসিস মেশিনটা করে দিচ্ছে। একই রকম ফুসফুসটার কাজ এই ক্ষেত্রে এই ভেন্টিলেটর মেশিনটা করে দেয়। এর বাইরে আর অন্য কোন কিছুই না।”

ড. নাবিল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মৃত ব্যক্তিকে লাইফ সাপোর্টে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, “মৃত মানে তার হার্টবিট অফ হয়ে গেছে, তারপরে তাকে আবার ভেন্টিলেশন কী কারণে? প্রশ্নই আসে না। এইখানে হচ্ছে যে তার হার্ট যতক্ষণ চালু ছিল সেই অবস্থায় হার্টের শক্তিকে ম্যানেজ করা, প্রেসার মেনটেইন করা, শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিকভাবে কৃত্রিমভাবে মেনটেইন করে মানুষটাকে কিছুদিন সুযোগ দেওয়া। যদি তার শরীর ক্রমাগত রিপেয়ার করার চেষ্টা করে এবং সুস্থ হয়ে যায়, তখন তো একসময় ভেন্টিলেশন থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। সাপোর্টে কিংবা আইসিইউতে একটা মৃত লোককে কখনো রাখার সুযোগ নেই। একটা লোক মরে গেলে তার শরীরের টেম্পারেচার অটোমেটিক প্রতি ঘন্টায় এক থেকে সোয়া এক ডিগ্রি সেলসিয়াস করে কমতে থাকে। এবং তখন তার শরীরের ইমিউন সিস্টেম একদম জিরো। তখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস সব অ্যাটাক করে লোকটা পচায় ফেলবে।”

ডা. মোঃ গওছুল আযম তার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, “মানুষ মারা গেলে কি অনেকদিন ধরে আইসিইউতে (ICU)রাখা সম্ভব?”

পোস্টের কমেন্টে তিনি উল্লেখ করেন, “লাইফ সাপোর্ট মানে-  যিনি এখনো জীবিত, কিন্তু যার ফুসফুস / হার্ট / কিডনি সাময়িকভাবে কাজ করছে না, তাকে মেশিন ও ঔষধের সাহায্যে সময় দেওয়া।

ভেন্টিলেটর = কৃত্রিমভাবে শ্বাস চালানো, ওষুধ = রক্তচাপ ও হার্টের কাজ ধরে রাখা।

মৃত্যুর পর শরীরে কী হয়? (বিজ্ঞান যা বলে)। মৃত্যুর পর শরীরে কিছু অপরিহার্য পরিবর্তন শুরু হয়- যেগুলো কোনো ICU, ভেন্টিলেটর বা ইনজেকশন দিয়ে ঠেকানো যায় না।”

একজন রোগী আইসিইউতে কতদিন থাকবেন তা নির্ভর করে তার অবস্থার ওপর; কেউ কয়েকদিন, কেউ কয়েক মাসও থাকতে পারেন, যতক্ষণ না তার অবস্থার উন্নতি হয় বা জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়, কিন্তু “মৃত” রোগীকে এখানে অনির্দিষ্টকাল রাখা হয় না। 

National Library Of Medicine প্রকাশিত একটি জার্নাল থেকে জানা যায় যে, আইসিউতে রোগীকে ভেন্টিলেশনে কতদিন রাখা যায়?

আইসিইউতে একজন রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখার সময়কাল নির্ভর করে তার ফুসফুসের কার্যকারিতার ওপর। সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তবে রোগী নিজে শ্বাস নিতে অক্ষম হলে এটি কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ভেন্টিলেশনে নিউমোনিয়া (Ventilator-associated Pneumonia) বা পেশি দুর্বলতার মতো ঝুঁকি বাড়ে। মৃত্যুর পর এই ভেন্টিলেশন চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন, কারণ ফুসফুস তখন আর অক্সিজেন গ্রহণ করে না।

গুজবের সূত্রপাত যেভাবে 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল-এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ‘লাশের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন।

পোস্টে মিনহাজ দাবি করেন, “জকসু নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার মৃ’ত্যু ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”  তিনি লেখেন, ‘আপসহীন দেশনেত্রী দেশের জন্য সবকিছু করে গেলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ছেলের থেকেও লাশের রাজনীতির শিকার হওয়া থেকে মুক্তি পেলেন না।’

তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে মিনহাজ পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী, দেশপ্রেমিক ও বিশ্বাসী মানুষের মতোই আমার কাছেও অত্যন্ত সম্মানীয়।

কিশোর বয়স থেকে আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিতাড়নের আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও সাহসিকতাকে অনুসরণ করতে শিখেছি।

তার ইন্তেকাল আগ্রাসনবিরোধী, দেশপ্রেমিক সব মানুষের জন্যই শোকের ঘটনা। বাংলাদেশের  জন্য অপূরনীয় ক্ষতি।

জকসু নির্বাচন স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আমি পূর্বে যে পোস্ট করেছিলাম সেটির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এবং ভুলটি সবাইকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য আল্লাহর কাছে ধৈর্য্যের তাওফিক কামনা করি।”

দেখুন এখানে

Masum Ahmed তার এক পোস্টে দাবি করেছেন, “জকসুর আজকের ভোেট ভোেট স্থগিত করেছে স্বৈরাচার সিন্ডিকেট-তারেকের প্লানিং এটা হয়েছে! লাশ নিয়ে সে রাজনীতি করতেছে এটা বুঝি-শিবিরের বিজয় ঠেকাতে আর কোন প্লান পাচ্ছে না তাই মা’রা যাওয়ার নাটক দেখিয়ে বন্ধ করে দিলো!”

পরবর্তীতে পোস্টটি সরিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ভিন্ন পোস্টে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আমি যে পোস্টটি করেছিলাম, সে বিষয়ে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি—যদি আমার কথায় বা লেখায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনাদের সবার কাছে বিনীতভাবে ক্ষমাপ্রার্থী!

মানুষ মাত্রই ভুল করে—ভুল বুঝতে পারা ও তা স্বীকার করার মধ্যেই পরিণতিবোধ।আশা করি সবাই বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন”

দেখুন এখানে

জনকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার Esrafil Farazi (ইসরাফিল ফরাজী) তার ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন “প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ২৮ তারিখ ঘোষণা করবে। তারপর জামায়াতের সমাবেশের কারণে পরিকল্পনা হলো তারা ১/২ জানুয়ারি ঘোষণা করবে। এবার লাশের রাজনীতি বন্ধ হোক এ দেশে।”

পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেললেও কোন দুঃখ প্রকাশ করেননি। 

বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ান ট্রাভেল ভ্লগার Boni Amin তার এক পোস্টে লিখেছেন, “সাজানো নাটকের গ্যাঁড়াকলে BNP, শোকের ব/দলে ছেলের প্রতি ধি`°ক্কার। ছেলে আসার আগেই মা মারা গিয়েছিলেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যেদিন আসার কথা ছিল, সেদিনই খালেদা জিয়া মারা যান। UK সেদিন মৃত ব্যক্তিকে ভিসা দিতে রিফিউজ করেছিল।”

দেখুন এখানে

Azhar Azad নামক একটি প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা হয়, “আফসোস” এ জাতি জানতে পারলো না বেগম জিয়ার সঠিক জন্ম তারিখ এবং সঠিক মৃত্যুর তারিখ। দুটি’ই ধোঁয়াশা  থেকে গেলো, একমাত্র বিএনপির অপরাজনীতির কারণে!”

দেখুন এখানে

Ariyan Rasid তার প্রোফাইলে একটি পোস্টে দাবি করেন, “তারেক রহমান দেশে হুট করে চলে আসার কারণ এইবার স্পষ্ট ! খালেদা জিয়ার মৃত্যু ,ছেলে তারেক রহমান দেশে না ফেরা পর্যন্ত গোপন রাখা হলো, বিএনপির নেতাপদ শূন্যতা পূর্ণ করতেই দ্রুত দেশে ব্যাক করল !”

দেখুন এখানে

মোঃ জিহাদ উল্লাহ তার পোস্টে লিখেন, “তিনি মুলত তারেক রহমান দেশে আসার আগেই মারা গিয়েছিলেন। মানে ডিসেম্বরের শুরুতেই। সেজন্যই তিনি তাড়াতাড়ি হাদী ভাইয়ের শোখের সময়েই দেশে আসার ঘোষণা দেন এবং দেশে আসেন। যদি আগেই ঘোষণা দেয়া হতো তখন যদি জাতিকে জানতে দেয়া হতো যে খালেদা জিয়া আর নেই তাহলে দল ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। সেজন্যই তারেক রহমান দেশে এসেই বলেছেন। have a plan তাই তিনি দেশে এসে শিডিউল শেষ করেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এর পূর্বে তিনি যখন মারা গিয়েছিলেন। বাহিরে চিকিৎসার নামে uk এয়ার এম্বুলেন্স এর কথা এসেছিল। কিন্তু মৃত হওয়ায় uk এয়ার এম্বুলেন্স ভিসা না করে দেয়। আমি ঐসময় একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। মানুষকে আসল খবর জানতে দেয়া হোক। মানুষের কাছ থেকে লুকালে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। নিজের জন্মদাতা মাকে নিয়ে এমন না করলেও পারতেন তারেক রহমান সাহেব। আল্লাহ তা’আলা বেগম জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুক (আমিন)”

পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন প্রোফাইল থেকে কিন্তু কোন দুঃখ প্রকাশ করেননি।

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট