কালেরকন্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনে ১০ মাসে ২০ বিলিয়ন পাচারের মিথ্যা খবর

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

গত ২৮ মে (বুধবার) দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন “১০ মাসে ২৭ হাজার সন্দেহজনক লেনদেন, ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন (আর্কাইভ) প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে পেইজে ফটোকার্ড (আর্কাইভ) সহকারে পাওয়া যায়। হুবহু শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে দৈনিক কালেরকন্ঠও।

শিরোনামে বিগত ১০ মাসে ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার করার কথা বলা হলেও প্রতিবেদনের ভেতরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বরাতে বলা হয়, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ থেকে ১৮-২০ বিলিয়ন বা এক হাজার ৮০০ কোটি থেকে দুই হাজার কোটি ডলার পাচার হয়েছে (বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ ১৯ হাজার ৬০০ কোটি থেকে দুই লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা)। একজনই ৩৫০টি বাড়ি কিনেছেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এসব অর্থ পাচার করা হয়েছে।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয় পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বরাতে বলা হয় যে, চলতি অর্থবছরের সাড়ে ১০ মাসে (২০২৪ সালের জুলাই থেকে ১৫ মে পর্যন্ত) ২৭ হাজার ১৩০টি সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর) পাওয়া গেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি।

স্পষ্টভাবেই প্রতিবেদনের ভেতরে বলা হচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ১৮-২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে যা শিরোনামের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

এছাড়া যমুনা টিভির ফেসবুক পেইজে বিএফআইইউ এর ২০২৩-২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও পাওয়া যায়। আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিগত সরকারের আমলে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এসব পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে ৩-৫ বছর লাগবে জানান তিনি। এছাড়া অন্য কোন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনেই দাবি করা হয়নি যে বিগত ১০ মাসে ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

কালেরকন্ঠ পরবর্তীতে প্রতিবেদনটির শিরোনাম ও ফেসবুক পেইজে ফটোকার্ড সংশোধন করলেও এ ব্যাপারে কোন ধরণের ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। ফলে পত্রিকাটির মিথ্যা দাবি সম্বলিত পূর্ববর্তী ফটোকার্ডটি এখনও প্রচারিত হচ্ছে ফেসবুকে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ)। কালেরকন্ঠ ব্যাখ্যা ছাড়া তাদের শিরোনাম ও ফটোকার্ড সংশোধন করলেও এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিদিন তাদের শিরোনাম ও ফটোকার্ড সংশোধন করেনি।

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট