নকল এক্স একাউন্টের বরাতে শি জিনপিংয়ের নামে ভুয়া মন্তব্য ভাইরাল

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সম্মান হারানোর আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা নিতে বললেন শি জিনপিং—এই শিরোনামে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম কালবেলা। ফেসবুকে কালবেলা ও ডেইলি সান পত্রিকার অফিসিয়াল পেইজ থেকেও ফটোকার্ড (,) আকারে তথ্যটি প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া শি জিনপিং-এর নামে এমন মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে (, , , , , , )। তবে ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দেখা যায়, শি জিনপিং এমন কোন মন্তব্য করেননি।

উক্ত দাবিটি প্রচার করতে তথ্যের উৎস হিসেবে মূলত President Xi Jinping- Commentary নামের এক্স (পূর্বের টুইটার) এর একটি অ্যাকাউন্টের পোস্টকে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশি পত্রিকা কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে, এবং অতীতের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সাবধান করেছেন। শুধু তাই নয়, কালবেলা এরও আগে ওই একই অ্যাকাউন্ট থেকে শি জিংপিংকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, “যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও পুলিশি কার্যক্রমে আট ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। হাজার হাজার আমেরিকান সৈন্য মারা গেছে বা গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। অন্যদিকে, লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া (মার্কিনদের) সবচেয়ে খারাপ সিদ্ধান্ত ছিল।”

যাচাই করে জানা গেছে, যেই এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্য নেওয়া হয়েছে, তা শি জিনপিং এর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট নয়, বরং একটি মতামতভিত্তিক বা প্যারডি  অ্যাকাউন্ট এবং ওই অ্যাকাউন্টের শেষে “কমেন্টারি” শব্দটি উল্লেখ করা ছিল যা এটির মতামতভিত্তিক চরিত্রকে স্পষ্ট করে। এ ধরনের অ্যাকাউন্টগুলো প্রায়ই প্রখ্যাত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে রসিকতা বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত চীনের সরকার কিংবা শি জিংপিং এর পক্ষ থেকে এমন কোনো মন্তব্য বা সতর্কবার্তা প্রকাশিত হয়নি।

 ভারতের ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যাক্টলি বলছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর কোনো অফিসিয়াল এক্স  অ্যাকাউন্ট নেই। এর আগেও ফ্যাক্টলি শি জিনপিং এর নামে ছড়ানো ভুয়া টুইট নিয়ে ফ্যাক্টচেক করেছে, যেখানে একইভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে এগুলো আসল নয় এবং সেগুলোর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের কোনো সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য যে, চীনা সরকার সাধারণত আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম (যেমন সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি, চায়না ডেইলি বা চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক) এবং সরকারি কূটনৈতিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে। শি জিনপিং নিজে কখনোই ব্যক্তিগত বা যাচাইকৃত এক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেননি। 

ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এক্স প্ল্যাটফর্মে প্যারোডি অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলন মাস্কের অধীনে ব্লু চেকমার্ক কেনার সুযোগের ফলে এই অ্যাকাউন্টগুলো প্রখ্যাত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। যদিও এসব অ্যাকাউন্টে প্যারোডি, কমেন্টারি বা ফেক লেবেল থাকে, তবুও মিডিয়া ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা তা লক্ষ্য না করায় ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এই ধরনের প্যারোডি অ্যাকাউন্টগুলো অনেক সময় রাজনৈতিক মিথ্যা তথ্য বা ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানোর কাজেও ব্যবহৃত হয়, যা সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট