দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, BNP claims Tarique can easily serve 3 to 4 terms as PM with public support.যেটির বাংলা ভার্সনের শিরোনাম, জনপ্রিয়তার কারণে তারেক রহমান চাইলে টানা তিন–চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন: বিএনপি। মূলত ২৫ জুন বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া একটি ভিডিও বিবৃতি উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। ওই বিবৃতিতে দলটি জানায়–তারা প্রধানমন্ত্রী পদের সময়সীমা দুই মেয়াদে সীমিত করার প্রস্তাব বিবেচনা করতে রাজি, যদি কিছু শর্ত মানা হয়। বিবৃতিতে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, তিনি চাইলে আরও ৩–৪ মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন– তবুও দলের অবস্থান হলো, কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকুক।
অর্থাৎ বিবৃতিতে বিএনপির বক্তব্যের ফোকাস ছিল এক ব্যাক্তির ২ বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার সংস্কার প্রস্তাবের সাথে একমত হওয়া বিষয়ে। সেটি জানাতে গিয়ে দলটি তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ টেনে বলে যে যদিও তারেক রহমান জনগণের ভোটে ৩-৪ বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন তবু বিএনপি এই প্রস্তাব মেনে নিচ্ছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড যেভাবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ৩–৪ মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে বিএনপির তুলনামূলক বক্তব্যটিকে প্রধান বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছে, তা সংবাদটির প্রেক্ষাপটকে বিকৃত করে। এতে পাঠকের কাছে মনে হতে পারে বিএনপি তারেক রহমানকে ৩-৪ বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। যেটি বিবৃতির মূল বক্তব্যের বিপরীত অর্থ তৈরি করে।
অন্যান্য গণমাধ্যম যেভাবে এসেছে খবরটি
উক্ত বিষয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা প্রতিবেদন করেছে ভিন্ন আঙ্গিকে। যেমন:
প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল “প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর, শর্তসাপেক্ষে রাজি বিএনপি”। যুগান্তরের শিরোনাম ছিল “প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি নয়—সিদ্ধান্তে একমত বিএনপি”। সমকালের শিরোনাম “প্রধানমন্ত্রীর ১০ বছর মেয়াদে শর্তসাপেক্ষে রাজি বিএনপি”। বিবিসি বাংলার শিরোনাম ছিল “প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের প্রশ্নে ছাড় দেবে বিএনপি, তবে শর্ত আছে”। এই শিরোনামগুলো বিবৃতির মূল বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফলে দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনটি পুরোপুরি সত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হলেও, সেটির উপস্থাপন ছিল প্রসঙ্গবিকৃত ও দৃষ্টিভঙ্গি–প্রভাবিত। এতে পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং সংবাদটির মূল বার্তা আড়াল হয়ে যায়।