সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি প্রচার করা হচ্ছে যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রস্তাব দিয়েছেন-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সারা বাংলাদেশে একদিনেই নির্বাচন না দিয়ে, ৮ দিনে ৮ টি বিভাগের নির্বাচন দিতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে,সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পাবে এবং সব কেন্দ্র লাইভ দেখানো হবে।”এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এবং এখানে।
যাচাইয়ে দেখা গেছে, এটি একটি ভিত্তিহীন দাবি এবং সেনাপ্রধানের এমন কোন বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সেনাপ্রধানের নামে প্রচার করা এসব পোস্টে আরও দাবি করা হচ্ছে, প্রতিটি কেন্দ্রের সার্বিক অবস্থা লাইভ টেলিকাস্ট করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৫ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, দুই জন বিজিবি সদস্য ও তিনজন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। বিমানবাহিনীর একটা স্পেশাল টিম হেলিকপ্টারযোগে টহল দিবে। কোনো কেন্দ্র আক্রান্ত হলে তারা দ্রুতই রিজার্ভ ফোর্স সরবরাহ করবে। এমনটি করতে পারলে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে জানা যায়নি। আইএসপিআর বা সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি নেই। এছাড়া কী-ওয়ার্ড সার্চ করে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে এ ধরনের প্রস্তাবের খবর পাওয়া যায়নি।
এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কখন, কীভাবে, কোথায়, কত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে- এই সিদ্ধান্ত একমাত্র নির্বাচন কমিশনই নিতে পারে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট ৮ দিনে করার,কিংবা হেলিকপ্টারে বাহিনী মোতায়েনের মতো কোনো পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি।
এসব তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের নামে ছড়ানো এসব ভিত্তিহীন।