সম্প্রতি,‘রাজধানীর খিলগাঁও থানার বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক “তরিকুল” একজন নারীকে বাসায় ঢুকে মারধর করছে’- শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে।
এই ভিডিওটি ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাপশনে প্রচারিত হয়েছে। কিছু পেজে ভিডিওটিকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, রাজধানীর খিলগাঁও থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক “তরিকুল” তার স্ত্রীর ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে এবং সন্তানদের সামনে যৌতুকের জন্য অত্যাচার করছে।

ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, বিএনপি এখনও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারেনি, তারপরও সারা দেশে খুন–হত্যা, নারী নির্যাতন, লুটপাট করে যাচ্ছে! এরা ক্ষমতায় গেলে কি করবে এখন দেশের জনগণকে বুঝতে হবে।
তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত এ ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো স্থানের নয়। এটি ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলার একটি ঘটনার ভিডিও, যেখানে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে।
এসব ভিডিওর কিছু কি–ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Economic Times এর ওয়েবসাইটে ২২ জুন ২০২৫ তারিখে “‘Papa please, mummy ko chod do’: Woman dies by suicide after dowry assault in Bihar, shocking video emerges” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওই্ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি এবং ভিডিওর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের বিহারের গয়া জেলায় নিশা কুমারী নামের এক নারীকে তার সন্তানের সামনে মারধর করা হয় এবং পরে তিনি সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করেন। তার বাবা, শ্রবণ কুমার, অভিযোগ করছেন যে, যৌতুকের দাবিতে তার মেয়ে নিশাকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৫ সালে বিবাহিত নিশা, দুই মেয়ে হওয়ার পর থেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন এবং স্বামী অভিষেক কুমার এবং তার পরিবার নিয়মিত যৌতুকের জন্য অর্থ দাবি করত। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অভিষেক নীশাকে মারধর করছে। তবে তার স্বামী অভিষেক দাবি করেছেন, যখন তাকে জানানো হয় যে, নিশা বিষ পান করেছেন, তখন সে পাটনায় ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে কি–ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে আরেক ভারতীয় গণমাধ্যম “The Logical Indian এর ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৩ জুন “Bihar Woman Dies Under Suspicious Circumstances; Husband Booked for Murder After Father Alleges Dowry Harassment” শীর্ষক শিরোনামে একই ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনটি থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রতিবেদনটিতে মহিলাকে নির্যাতনের ভিডিওটিও দেখতে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, ভারতের বিহারের নারী নির্যাতনের ভিডিওকে বিএনপি নেতার নির্যাতনের দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।