মরোক্কোয় আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনাকে বাংলাদেশে চাঁদাবাজদের হামলা বলে প্রচার

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সম্প্রতি, ‘গাজীপুরে চাঁদাবাজদের হাত থেকে বাঁচতে পানির ট্যাংকে উঠেও রক্ষা পেল নাশীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এখানে। 

ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর ক্যাপশন শেয়ারকৃত পোস্টে দাবি করা হচ্ছে-এই হলো আমাদের নতুন বাংলাদেশ। নিত্যনতুন ভাবে হত্যাযজ্ঞ চলমান। গাজীপুরে চাঁদাবাজদের হাত থেকে বাঁচতে একজন ব্যক্তি প্রাণভয়ে পানির ট্যাংকের ওপরে উঠেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো স্থানের নয়। এটি মরোক্কোর বনি মল্লাল অঞ্চলের একটি জলাধারের উপরে মারধরের ঘটনার ভিডিও। 

এসব ভিডিওর কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে মিশরীয় সংবাদমাধ্যম Shorouk News এর ওয়েবসাইটে ( المغرب: فتح تحقيق بعد تصرفات خطيرة لمعتصم فوق خزان مياه ) মরোক্কো: পানির ট্যাংকে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের পর তদন্ত শুরু “-শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনটি বাংলায় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মরোক্কোর বনি মলাল অঞ্চলের একটি গ্রামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি উঁচু জলাধারের ওপর উঠে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে, ওই ব্যক্তি এক উদ্ধারকর্মীকে আটক করে লাঠি দিয়ে উপর্যুপুরী আঘাত করেন এবং তাকে জলাধার থেকে ফেলে দেন। এই ঘটনায় উদ্ধারকর্মীটি গুরুতর আহত হন এবং তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে, ড্রাক বাহিনীর (মরক্কোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।

পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে মরোক্কোর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম i3lamtv.com এ “ أولاد يوسف(بني ملال): استنفار أمني بعد اعتداء واحتجاز عنصر من الوقاية المدنية فوق خزان مائي ” (পানির ট্যাংকে উদ্ধারকর্মীকে আক্রমণ আটক করার পর নিরাপত্তা বৃদ্ধি)- শীর্ষক শিরোনামে একই ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনটি থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই প্রতিবেদনটিতে ব্যবহৃত ছবির সাথেও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

অর্থাৎ, মরোক্কোর একটি জলাধারের উপরে মারধরের ঘটনাকে ‘গাজীপুরে চাঁদাবাজদের হাত থেকে বাঁচতে পানির ট্যাংকে উঠেও রক্ষা পেল না’-শীর্ষক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

 

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট