সম্প্রতি, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে যে, “পাবনায় জুলাই শহিদ চত্বর ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আল্লাহ পাকের বিচার, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই শুরু হয়েছে।” ফেসবুকে এমন দাবিতে প্রচারিত কিছু ভিডিও দেখুন এখানে এখানে এখানে।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, সূত্রহীনভাবে দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর কয়েকটি কী–ফ্রেম বিশ্লেষণ করা হলে দেখা যায়, ‘পাবনা সংবাদ ২৪’ নামের একটি ফেসবুক পেজে অনুরূপ একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল— “পাবনায় শহিদ চত্বর ভেঙে ফেলা হচ্ছে, তৈরি হবে জাহিদ–নিলয় নামে চত্তর।” ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে ওই ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে পেজটির সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক সুলভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছে যে শহিদ চত্বরে নতুন একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পাবনায় দুজন ছাত্র শহীদ হয়েছিলেন। তাদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে শহিদ চত্বরের স্থানে নতুন একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই তথ্য নিশ্চিত করেন পাবনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নাহারুল ইসলাম। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে সারাদেশে `জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ‘ নির্মাণ করা হচ্ছে এবং পাবনাতেও সেই প্রকল্পের আওতায় নতুন স্থাপনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এটি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভেঙে ফেলা হচ্ছে না; বরং শহীদদের স্মৃতি আরও মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে দাবি করা হয়েছে যে, শহিদ চত্বর ভেঙে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এটি শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে নতুন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অংশ। ফলে ভাইরাল দাবিটি বিভ্রান্তিকর।