ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনীর ভিডিওবার্তা দাবিতে প্রচার

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সম্প্রতি একটি ভিডিওকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনী থেকে পাঠানো বার্তা দাবিতে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রচার করা হচ্ছে। ১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একজন জনসংযোগ কর্মকর্তাকে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয় যে “এবার কিভাবে সামাল দিবে মহাজন.??” পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)। 

আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করা, বাংলাদেশে ব্যাপকহারে জঙ্গি উপস্থিতি এবং সেনবাহিনীর উপর দলীয়করণের অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। এতে আরো দাবি করা হয়, জাতিসংঘের নিরাপত্তা বাহিনী থেকে পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে জানানো হয়েছে যে, যদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আনা যায় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়ন না হয় তবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপর শান্তি রক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

সম্মিলিত ভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওগুলো প্রায় ১.৫ লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে, ৭ হাজারের অধিক রিয়েকশন, ২০০ এর অধিক কমেন্ট ও ১.৫ হাজারের অধিকবার শেয়ার করা হয়েছে। 

এই প্রচারণাটি যাচাই করে ফ্যাক্ট অর ফলস। যাচাইয়ে দেখা যায়, যে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে তা মূলত ভিন্ন একটি ঘটনা কেন্দ্রিক। এরসাথে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী কিংবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই। 

ভিডিওতে  ইউএস আর্মির একজন অফিশিয়ালকে বিবৃতি দিতে দেখা যায়। ১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিওটির এক কোনায় CBS News এর লোগো দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া ভিডিওবার্তার কিওয়ার্ড ধরে খুঁজে ও ইমেজ রিভার্স সার্চ দিয়ে প্রকৃত ঘটনাটি খুঁজে পাওয়া যায়। ঘটনাটি মূলত ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে জর্জিয়ার ফোর্ট স্টুয়ার্ট আর্মি এয়ারফিল্ডে এক সেনা কর্মকর্তা কর্তৃক সহকর্মীদের উপর গুলি চালনার ঘটনা পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিও। 

ভিডিওতে কথা বলতে দেখা যাওয়া সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জন লুবাস সাংবাদিকদের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছেন। ৭ আগস্ট আনুমানিক বেলা ১১ টায় সার্জেন্ট কর্নেলিয়াস র‍্যাডফোর্ডের গুলিতে ৫ জন সৈন্য আহত হয়। তৎক্ষণাৎ র‍্যাডফোর্ডকে আটক ও নিরস্ত্র করা হয়। ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে তখনো কিছু জানা যায় নি। তবে লুবাস নিশ্চিত করেছেন যে, আহত সৈন্যরা আশংকামুক্ত আছেন। 

এ সংক্রান্ত আরো সংবাদ দেখুন এখানে, এখানে, এখানেএখানে। 

অর্থাৎ, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, কিংবা শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কিংবা সেনাবাহিনীর উপর শান্তি রক্ষা মিশনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ জাতীয় যে দাবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। 

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট