সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে “কুমিল্লা হোমনায় জমি নিয়ে বিরোধে, অসহায় কৃষকে পিটিয়ে খুন করলো জামায়াত নেতা” শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায় নদীর পাড়ে একটি নৌকায় একটি মরদেহ পড়ে আছে। আশেপাশে মানুষজন ভিড় করে আছে ও পুলিশের সাথে আলোচনা হচ্ছে। দাবীকৃত পোস্টগুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্ট অর ফলস-এর যাচাইয়ে দেখা যায়, ১৭ আগস্ট ২০২৫ কুমিল্লা থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে যার একজন কবির হোসেন। কবির হোসেনের মরদেহ প্রচারিত ভিডিওতে নৌকায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু তার মৃত্যুর সাথে জামায়াত নেতার কোনো সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, তারা দুজনই মানসিক রোগী ছিলেন এবং কবির হোসেন শারীরিক ভাবেও অসুস্থ ছিলেন। রঘনাথপুর গ্রামের কবির হোসেন শনিবার রাতে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উভয়েই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং আগে একাধিকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন গণমাধ্যমকে বলেন, “মৃত দুজনই দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক রোগী ছিলেন। এদের মধ্যে তিতিয়া গ্রামের কবির হোসেনের মানসিক ও হার্টের অসুখ ছিল। লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।”
এ সংশ্লিষ্ট সংবাদগুলো দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
অর্থাৎ কুমিল্লার হোমনায় জামায়াত নেতার জমি নিয়ে বিরোধে কৃষক পিটিয়ে খুন করার দাবিটি সত্য নয়।