ছবিতে থাকা তরুণ শিবির নয়, বাগছাস নেতা; হামলার ঘটনাটি বাগছাসের কমিটি নিয়ে

ফ্যাক্ট অর ফলস টিম

সামাজিক মাধ্যমে এক তরুণের ৩টি কোলাজ ছবি দিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, ছবিতে থাকা ওই তরুণ বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে গুপ্তভাবে শিবির করতেন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। আরও দাবি করা হয়েছে, ছাত্রলীগের প্রশ্রয়ে থাকা ধরনেরগুপ্ত শিবিরকর্মীরাই বিরোধীদল দমনে ছাত্রলীগের চেয়েও বেশি মারমুখী ভূমিকা পালন করেছিল। এ সংক্রান্ত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্ট অর ফলস-এর যাচাইয়ে দেখা যায়, আলোচিত ওই তরুণের নাম শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এর যুগ্ম সদস্য সচিব।

কোলাজ ছবিগুলোতে দেখা যায়, একটি মারামারির ঘটনায় তার উপস্থিতি রয়েছে। যেখানে কয়েকজন তরুণ একজনকে মারধর করছেন। তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, আলোচিত ছবিটি আসলে কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর হামলার নয়। এটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন ছাত্রসংগঠন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নিজেদের মধ্যকার দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় তোলা। মূলত নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে ওই দিন এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

অর্থাৎ, ফটোকার্ডে ব্যবহার করা ছবিটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর হামলার নয়, বরং ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের একটি মুহূর্ত।

উক্ত ফটোকার্ডে কয়েকটি আলাদা প্রেক্ষাপটের ছবি একত্র করে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম ছবিতে দেখা যায়, শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েমের সঙ্গে আছেন। পরের ছবিতে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী  সাবেক পৌর মেয়র মকছুদ মিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার গলায় নৌকা প্রতীকের একটি আইডি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। 

সাদিক কায়েমের সঙ্গে শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিনের ছবিটি তিনি নিজেই তার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশ করেছিলেন (আর্কাইভ) । পোস্টে তিনি ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে সাদিক কায়েমের কাছে নিজের জন্য ভোট চেয়ে আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এবারের ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম শিবিরসমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর শাহরিয়ার ইয়ামিন স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে স্বাস্থ্য পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন।

বিষয়ে সাদিক কায়েম বলেন, শাহরিয়ার ইয়ামিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না। একইভাবে শাহরিয়ার ইয়ামিনও জানান, তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন।

কক্সবাজারের মহেশখালীর সাবেক পৌর মেয়র মকসুদ মিয়ার সঙ্গে নিজের ছবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মকসুদ মিয়া তার দূরসম্পর্কের দাদা। সেই সূত্রে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তিনি কখনোই ছাত্রলীগের কোনো পদধারী নেতা ছিলেন না।

অর্থাৎ, শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্তএমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)-এর যুগ্ম সদস্য সচিব

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট