জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন।
তারপর থেকেই সোচ্চার ভারতীয় মিডিয়া।গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ IndiaToday, আনন্দবাজার ও Calcutta Television Network প্রায় একই শিরোনামে প্রতিবেদন করে।যেখানে দাবি করা হয় হাসিনার রায় ঘোষনার পর সহিংসতায় অন্তত দুই জন নিহত হয়েছে।একজন ঢাকাতে অন্যজন বরিশালে।
ফ্যাক্ট অর ফলস টিমের যাচাইয়ে দেখা যায়, ঢাকা এবং বরিশালে দুটি ভিন্ন ঘটনার হত্যাকান্ডকে ভারতীয় মিডিয়াগুলো হাসিনার রায় পরবর্তী সহিংসতা বলে প্রচার করছে।
যাচাইয়ে আরো দেখা যায়, ভারতীয় মিডিয়ায় ধানমণ্ডি ৩২-এর ভিডিও দিয়ে এটিকে ‘আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও ইন্ডিয়া টুডে ঢাকায় যুবদল নেতা হত্যার ঘটনাকে হাসিনার রায় পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে প্রচার করেছে।কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় কিংবা এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই
আনন্দবাজার পত্রিকাটি শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার পর ‘দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে’ উল্লেখ করে লিখেছে, ‘বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেলি স্টার’ জানাচ্ছে, সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার পল্লবী থানা এলাকায় যুবদল (বিএনপি-র যুব শাখা)-এর এক কর্মীকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে।’ ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনেও দেখা যায় এই ঘটনার সঙ্গে রায়ের কোনো সংযোগ নেই।
ডেইলি স্টারে ১৯ নভেম্বর ২০২৫ প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “রাজধানীর পল্লবীতে একটি দোকানে ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ড সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের সঙ্গে বিরোধ কারণ হিসেবে মনে করছে পুলিশ।”
ইন্ডিয়া টুডে তাদের প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডকে রায় পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে প্রচারের পাশাপাশি ‘আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে তাদের বিরোধীদের ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে’ লিখেছে, যার কোনো সত্যতা নেই। রায়ের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তাদের প্রতিবেদনে ভিডিও দিয়েছে, যেটি আদতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এই আন্দোলনকারীরা আওয়ামী সমর্থক নন এবং তারা রায়ের বিরোধিতাও করেননি।
ভারতীয় মিডিয়ায় ‘রায় পরবর্তী সহিংসতায়’ যে দু’জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের আরেকজন হলেন বরিশালের বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম (৩০)। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বাবুগঞ্জ উপজেলায় মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষ ও এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সমকালের প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
ফলে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার করা শেখ হাসিনার রায় পরবর্তী সহিংসতার খবরগুলো অসত্য ও অতিরঞ্জিত।
