“শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সন্তানদের দায়িত্ব আমি নিয়ে নিয়েছি।”—এমন বক্তব্য দেননি তারেক রহমান

“শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সন্তানদের দায়িত্ব আমি নিয়ে নিয়েছি।” বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত দুটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে

ফ্যাক্ট অর ফলস এর যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

আলোচিত ফটোকার্ডটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, আশার আলো নামে একটি পেইজ থেকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছে দাবিসম্বলিত ছবিটি। ফটোকার্ডটিতে  তারেক রহমান সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন এমন একটি ছবি ব্যবহার করে নীচেই দাবি করা হয়েছে , তিনি বলেছেন, “শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সন্তানদের দায়িত্ব আমি নিয়ে নিয়েছি। ছবিটির নীচের অংশে ‍aTV নামে একটি চ্যানেলের লোগোসহ ওয়েবসাইট ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পিনাকি ভট্টাচার্যর নামে পরিচালিত একটি গ্রুপে উক্ত দাবির পোস্টটিতে শতাধিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি অর্ধশতাধিক মন্তব্য পড়তে দেখা গেছে। যেখানে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। 

তবে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে সরাসরি দাবির পক্ষে যায় এমন কোনো সংবাদ দেশী-বিদেশী সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের সম্পর্কিত একটি বক্তব্য পাওয়া যায়। এতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদেরও দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, কে রাজনীতি করবে—সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জনগণই নেবে।” 

রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত দেখুন এখানে  

সেখানে তিনি “জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে ফিরতে পারে” বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। নিজে তাদের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেননি। 

দেখুন এখানে

সুতরাং, “শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সন্তানদের দায়িত্ব আমি নিয়ে নিয়েছি।” বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া। তারেক রহমান এধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। উল্লেখ্য যে, আশার আলো নামে ফেসবুক পেইজটি নিয়মিত বিএনপির বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়ায়।  

Facebook
LinkedIn
Twitter
Pinterest

সম্পর্কিত পোস্ট